শিল্পকারখানা দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এবং লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের কেন্দ্রবিন্দু। দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ খাতকে ধ্বংস করার জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা নগরীর ডাকবাংলো মোড়ে আয়োজিত এক অনির্ধারিত পথসভায় তিনি এই শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যারা অতীতে গণতন্ত্র ধূলিসাৎ করেছিল, তারাই এখন নতুন করে দেশের অর্থনীতি অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে। যেকোনো মূল্যে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেই অপচেষ্টা প্রতিহত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
সফরের ধারাবাহিকতায় এদিন সকালে মোংলা ও বাগেরহাটে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে খুলনার প্রবেশদ্বার রূপসা উপজেলার তিলক কুদির বটতলায় আয়োজিত পথসভায় অংশ নেন তিনি। রূপসা ব্রিজ পার হয়ে নগরীতে প্রবেশের পথে শহরের কেন্দ্রস্থল ডাকবাংলো মোড়ে পুনরায় পথসভায় বক্তব্য দেন। এ সময় কুদির বটতলা থেকে খানজাহান আলী সেতু পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ প্ল্যাকার্ড হাতে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। দুপুর ২টা ৩৪ মিনিটে খুলনা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি’ সিজন-২ উদ্বোধনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন তিনি। আমি আজ খুলনায় এসেছি নতুন কুঁড়ি উদ্বোধন করতে।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ এক যুগ ধরে যারা জোরপূর্বক ক্ষমতার দখল নিয়ে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছিল এবং লুটপাটের রাজনীতি কায়েম করেছিল, ২০২৪ সালে দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ তাদের বিতাড়িত করেছে। সেই স্বৈরাচারী শক্তিই এখন পুনরায় ষড়যন্ত্রের ডালপালা মেলছে। তবে গণতন্ত্র রক্ষা এবং জনগণের স্বার্থে যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে, তা কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে মাথানত করবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন। ২০২৪ সালে দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ যেভাবে স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করেছিল, সেই শক্তি আবারও ষড়যন্ত্রের ফণা তুলেছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বাংলাদেশকে নতুন আঙ্গিকে গড়ে তুলতে চাই। খেলাধুলাসহ নানা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখন থেকে আমাদের সবার একটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত—জনগণের আকাঙ্ক্ষিত একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণ করা। ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর।

