কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আধুনিক জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করেছে। এর ফলে বিদ্যমান অনেক পেশার বিলুপ্তি যেমন ঘটতে পারে, তেমনি তৈরি হবে নতুন অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগ। এই বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে শিক্ষাকাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা জরুরি। রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিটে’ প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ কথা বলেন। সম্মেলনে ‘শিল্প ও শিক্ষাঙ্গনের সংযোগ: ব্যবসায়িক উদ্ভাবনের লক্ষ্যে এআই-করণ’ শীর্ষক অধিবেশনে তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের দৈনন্দিন ও জীবনসংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে হবে এবং এআইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
এমসিসিআই-এর সহসভাপতি সিমিন রহমান একই অধিবেশনে মত প্রকাশ করেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সেতুবন্ধন জোরদার করা আবশ্যক। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে এআই ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। আজ সকালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।
সম্মেলন প্রাঙ্গণে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি উদ্ভাবকদের সমন্বয়ে প্রযুক্তি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ১৫০টিরও বেশি স্টার্টআপ তাদের প্রকল্প তুলে ধরে। এছাড়া ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত এআইনির্ভর বিভিন্ন প্রোটোটাইপ প্রদর্শিত হয়েছে। বিকেলে অনুষ্ঠিত প্যানেল আলোচনায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার প্রযুক্তিচালিত অর্থনীতি বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর। ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে কৃষিখাতে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রান্তিক কৃষকদের এআই প্রযুক্তির আওতায় আনার বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।
বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। আইনিডস্কিলের প্রতিষ্ঠাতা কে এম ইমরুল হাসান জানান, তারা একটি এআইভিত্তিক শিক্ষাবিষয়ক পোর্টাল তৈরি করেছেন, যা প্রথাগত শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে ভবিষ্যৎ চাহিদার উপযোগী দক্ষতা অর্জনে সহায়ক। ব্রেন স্টেশন ২৩ পিএলসির সিইও রাইসুল কবির জানান, তারা একাধিক এআই এজেন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে কর ব্যবস্থাপনা ও মানবসম্পদ নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজতর করছেন। গরুসেবার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাদিম মাহমুদ গবাদিপশু ট্র্যাকিংয়ের মতো কাজে এআই প্রযুক্তি যুক্ত করার কথা জানান।
স্মার্ট অফিসের পণ্য ব্যবস্থাপক সারোয়ার শুভ জানান, তাদের ইআরপি প্ল্যাটফর্মে এআই ব্যবহার করে অফিস ব্যবস্থাপনা ও কর্মীদের কাজের হিসাব রাখা সহজ হচ্ছে। এছাড়া ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী কাজি সুমেহরা তাসনিম ‘গ্রিন সিংক’ নামের একটি স্মার্ট ডাস্টবিন প্রদর্শন করেন, যা এআইয়ের মাধ্যমে সরাসরি মনিটর করা সম্ভব। প্রযুক্তি খাতের এই অগ্রযাত্রা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করার পাশাপাশি কাজের দুশ্চিন্তা লাঘব করবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

