কাতারের মধ্যস্থতায় পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন একটি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠিয়েছে ইরান। প্রস্তাবটি বর্তমানে ওয়াশিংটন পর্যালোচনা করছে বলে নিশ্চিত করেছেন এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা। তবে প্রস্তাবের বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করেননি।
রাশিয়া সফরকালে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাই জানিয়েছেন, আলোচনার জন্য ইরান সাতটি কঠিন শর্ত দিয়েছে। তেহরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে জমে থাকা ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করা এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান। এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনায় বসা হবে না এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হবে বলেও স্পষ্ট করেছে তেহরান।
অন্যদিকে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, শর্তের বিনিময়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে তারা রাজি নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্যমতে, যেকোনো ধরনের প্রাথমিক আলোচনার শুরুতেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি এজেন্ডায় থাকতে হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা তৎপরতা বাড়ালেও, ইরানও যেকোনো বড় ধরনের পাল্টা আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সংঘাতের বিস্তার এখন লেবানন ও ইয়েমেন পর্যন্ত পৌঁছেছে। লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের লড়াইয়ের পাশাপাশি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো এবং বিমানবন্দর লক্ষ্য করে নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দুই দেশের নতুন এই প্রস্তাবকে বড় ধরনের কূটনৈতিক মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

