কক্সবাজারের টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মানবপাচারকারীদের আস্তানা ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালীর পাহাড়ে সশস্ত্র মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনী অভিযান চালায়। এই সংঘর্ষের সময় মানবপাচারকারীদের গুলিতে সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭) দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিহত হন। একই অভিযানে পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে বন্দিদশা থেকে ৫৬ জনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের শুক্রবার সকালে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই অভিযানে পাহাড়ে বন্দি থাকা ৫৬ জনকে উদ্ধার করা হয়। কক্সবাজারে টেকনাফের পাহাড় ঘিরে একের পর এক ঘটনায় বাড়ছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার দুর্গম পাহাড়ের ভেতরে নতুন করে তিনজনের নিথর দেহ পড়ে থাকার তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় এখনো সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই কারণে উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এগুলো আসলেই লাশ কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না পুলিশ। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, পাহাড়ের ভেতরে তিনটি মৃতদেহ পড়ে থাকার খবর তাদের কাছে এসেছে, তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে অভিযান চলছে। পাহাড়ে নতুন করে তিনজনের লাশ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান শুক্রবার বিকালে নিশ্চিত করেন যে, তারা তিনটি মৃতদেহ পাহাড়ের ভেতরে পড়ে থাকার তথ্য শুনেছেন। তিনি জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত এগুলো উদ্ধার করে পরীক্ষা করা না যাচ্ছে, ততক্ষণ নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, মানবপাচারকারী চক্র নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ে আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। তিনি আরও বলেন, মানবপাচার যতদিন চলবে, ততদিন অভিযানও চলবে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী সেনাসদস্যের নিহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় একজন সেনাসদস্যের প্রাণহানি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, পাহাড়ের ভেতরে অবস্থানরত সশস্ত্র অপরাধী ও মানবপাচারকারীদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। অপরাধ করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পাহাড়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এসব সশস্ত্র চক্রের আস্তানা নির্মূলে কেবল বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, বরং পুরো এলাকায় সমন্বিত ও স্থায়ী সাঁড়াশি অভিযান প্রয়োজন। এ ধরনের অপরাধ নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

