মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে ইরান। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে চালানো ধারাবাহিক এসব হামলায় অঞ্চলটিতে মার্কিন বাহিনীর ২৬টি ঘাঁটি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক বিশ্লেষণে স্যাটেলাইট চিত্র ও আঞ্চলিক তথ্যের ভিত্তিতে এই চিত্র ফুটে উঠেছে। আগস্ট মাস পর্যন্ত চলা এসব হামলায় কেবল অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতিই হয়নি, বরং কয়েক শ কোটি ডলারের আর্থিক লোকসান হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইরান অত্যন্ত কৌশলে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের রাডার ব্যবস্থা ও আগাম সতর্কীকরণ কেন্দ্রগুলোকে অকার্যকর করে দেয়। কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান ও বাহরাইনের নৌ-সহায়তা কেন্দ্রে হামলার পর মার্কিন উড়োজাহাজ রাখার স্থাপনা, গুদাম এবং সেনাদের আবাসনগুলো ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু। কুয়েতের আলী আল সালেম ও ক্যাম্প বুয়েরিং ঘাঁটিতে সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সৌদি আরব, জর্ডান এবং কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোও হামলার শিকার হয়েছে।
কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন হামলায় এ পর্যন্ত মার্কিন ১৫টি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে মার্চ মাসে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় একটি নজরদারি বিমান ও দুটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান অকেজো হয়ে যায়। কুয়েতে একটি ড্রোন হামলায় ছয় মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মার্কিন প্রশাসন ও সামরিক বাহিনী ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র গোপন রাখার চেষ্টা করলেও স্বাধীন বিশ্লেষণে এই বড় আঘাতের সত্যতা স্পষ্ট হয়েছে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে যুক্তরাষ্ট্র এখন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তাদের অনেক সামরিক সরঞ্জাম ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তুলনামূলক কম খরচের ড্রোনের সামনে মার্কিন সামরিক কাঠামোর এই ক্ষয়ক্ষতি আধুনিক যুদ্ধের নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল থাকার দিন ফুরিয়ে আসছে।

