রাজনৈতিক অস্থিরতা ও তীব্র বিতর্কের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। নিজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ব্যাংকের দেউলিয়া হওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই দেশজুড়ে সৃষ্ট সংকট ও সমালোচনার কেন্দ্রে ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান। প্রেসিডেন্ট পেনা বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষা, সামাজিক শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই তিনি সরে দাঁড়ানোর এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ‘উয়েনো ব্যাংক’ দেউলিয়া হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করলে প্যারাগুয়েজুড়ে বড় ধরনের আর্থিক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যাংকটি জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ, যা দেশটির মোট প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ। ব্যাংকটিতে সাধারণ মানুষের জমানো অর্থের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেনশন তহবিলও গচ্ছিত ছিল। বর্তমানে ব্যাংকটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকায় লাখ লাখ গ্রাহক নিজেদের হিসাব থেকে অর্থ তুলতে পারছেন না।
প্রেসিডেন্ট পেনার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংকটির মালিকানাধীন কোম্পানির অংশীদার ছিলেন। এই স্বার্থের সংঘাত ও অসদাচরণের অভিযোগে দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষে ভোট পড়েছিল। যদিও পেনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ভিডিও বার্তায় তিনি জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘যদি কোনো ক্ষেত্রে আমি ব্যর্থ হয়ে থাকি, তবে ক্ষমা চাইছি। জনগণের আস্থার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার কোনো উদ্দেশ্য আমার ছিল না।’
৪৭ বছর বয়সী সান্তিয়াগো পেনা ২০২৩ সালের আগস্টে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগগুলো দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের সংকটের সৃষ্টি করে, যার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবেই তাঁকে ক্ষমতা ছাড়তে হলো।

