রাজধানীর সরকারি আবাসিক এলাকাগুলোতে বরাদ্দ পাওয়া ফ্ল্যাটে অবৈধভাবে বসবাসকারী ভাড়াটে ও সাবলেট বাসিন্দাদের উচ্ছেদে বিশেষ অভিযান চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে রাজধানীতে বিভিন্ন শ্রেণির মোট ১৯ হাজার ৯১টি সরকারি বাসা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এসব ফ্ল্যাটে সংশ্লিষ্ট সরকারি চাকরিজীবীদের পরিবর্তে তৃতীয় পক্ষ বা অন্যদের ভাড়া ও সাবলেট দিয়ে রাখার অভিযোগ রয়েছে। এই দীর্ঘদিনের অনিয়ম বন্ধে গত ২৯ অক্টোবর একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে কর্তৃপক্ষ। সেই বিজ্ঞপ্তিতে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সব ভাড়াটে ও সাবলেট বাসিন্দাকে সরকারি বাসা থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশনায় পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, যার নামে বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাকেই সেখানে বসবাস করতে হবে।
অভিযান ও তদন্ত প্রক্রিয়া
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি বাসা থেকে ভাড়াটেরা সরে গেছেন কি না, তা যাচাইয়ের জন্য মাঠপর্যায়ে তদন্ত শুরু করেছে আবাসন পরিদপ্তর। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বর্তমানে ঢাকার বিভিন্ন সরকারি আবাসিক এলাকায় পাঁচটি বিশেষ তদন্ত দল কাজ করছে। দলগুলো সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করছে এবং কারা বাসা ছেড়েছেন আর কারা এখনো অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, তার তালিকা প্রস্তুত করছে। যদিও কয়েকটি এলাকার তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হয়েছে, তবে সার্বিক পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পরিদপ্তর সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তদন্ত শেষে পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়ার পরপরই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। যেসব সরকারি চাকরিজীবীর বরাদ্দ করা বাসায় এখনো ভাড়াটে বা সাবলেট বাসিন্দা পাওয়া যাবে, মূলত তাদের বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরাদ্দ বাতিলের সতর্কতা
৩১ অক্টোবরের মধ্যে সরকারি বাসা থেকে ভাড়াটে ও সাবলেট বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও এখনো যারা তা মানেননি, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
তবে চূড়ান্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের একটি সুযোগ দেওয়া হবে। তারা কেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা কার্যকর করতে পারেননি, সে বিষয়ে তাদের যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে হবে। যদি কেউ তাদের ব্যর্থতার স্বপক্ষে সন্তোষজনক কারণ দেখাতে ব্যর্থ হন, তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি চাকরিজীবীর বাসার বরাদ্দ সরাসরি বাতিল করা হতে পারে। কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, নির্ধারিত সময়ের পর কোনো সরকারি ফ্ল্যাটে ভাড়াটে বা সাবলেট বাসিন্দা পাওয়া গেলে বরাদ্দ বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমানে কোন কোন সরকারি চাকরিজীবীর বরাদ্দ করা বাসায় এখনো ভাড়াটে বা সাবলেট বাসিন্দা রয়েছেন, তাদের শনাক্ত করার কাজ অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে সম্পন্ন করা হচ্ছে।

