কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার রঙ্গীখালী এলাকার পাহাড়ি অঞ্চলে মানব পাচারকারীদের আস্তানায় অভিযান পরিচালনার সময় গুলিবর্ষণের ঘটনায় সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখ (২৭) শহীদ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় আরও ৫৭ জন জিম্মিকে উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিককে ১৫-১৬ জনের একটি সশস্ত্র চক্র সেখানে বন্দি করে রেখেছিল। কক্সবাজারের টেকনাফে মানব পাচার চক্রের সদস্যদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখ (২৮) মারা গেছেন।
অভিযানটি সফল করতে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বিজিবি ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে একটি যৌথ আভিযানিক দল গঠন করা হয়।
বিকেল ৫টার দিকে বাহিনীটি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পাচারকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। উভয় পক্ষের তীব্র সংঘর্ষের এক পর্যায়ে সৈনিক তিতাস শেখের বাম কাঁধে গুলি লাগে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গোলাগুলির ওই ঘটনায় জড়িত ৫ জন পাচারকারীকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে ১টি পিস্তল, একটি দেশি বন্দুক ও চার রাউন্ড গোলাবারুদ জব্দ করেছে যৌথ বাহিনী। এই বীর সেনাসদস্যের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি বাহিনীর পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং তার আত্মার শান্তি কামনা করা হয়েছে। ওই অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ১টি পিস্তল, ১টি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও ৪ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া, মানবপাচারকারী চক্রের ৫ জন সদস্যকে আটক এবং জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়।

