ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি সম্প্রতি এক ভয়াবহ সাইবার হামলার শিকার হয়েছেন। হ্যাকারেরা তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাঁস করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের এই অপচেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে, যা তাঁকে নতুন করে বিভিন্ন হুমকি ও ভয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আন্তোনিও তাজানি জানিয়েছেন যে, হ্যাকারেরা কেবল তাঁকেই লক্ষ্যবস্তু করেনি, বরং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তাকেও চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আন্তোনিও তাজানি লেখেন, ‘কয়েক দিন ধরে সাইবার অপরাধীরা ডার্ক ওয়েবে আমার ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করছে। একই সঙ্গে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় হামলা
আন্তোনিও তাজানি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইউক্রেন ইস্যুতে ইতালির গ্রহণ করা শক্ত অবস্থানের কারণেই তাঁকে এমন সাইবার অপরাধের লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। নিজের ভেরিফাইড এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়ানো এবং গণতন্ত্রের প্রতি স্পষ্ট সমর্থন জানানো—এসব বিষয় অপরাধী গোষ্ঠীর চোখে বিপজ্জনক। ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইতালির অবস্থানই সম্ভবত তাঁদের ক্ষোভের কারণ।’
ইতালির প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
এই সাইবার হামলার ঘটনায় রুশপন্থী হ্যাকারদের সরাসরি দায়ী করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি।
তিনি আন্তোনিও তাজানির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন। মেলোনি এক বিবৃতিতে বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের গোপনীয় তথ্য হাতিয়ে নিয়ে তা প্রকাশ বা বিক্রি করা একটি অত্যন্ত গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া।
- ইউক্রেন যুদ্ধে মানবিক ও সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে ইতালি।
- ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধ চলমান রয়েছে।
- তাজানিকে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

