কাতারের দোহায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে শনিবার যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে সমবেত প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হযরত আলী খান জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কার্যক্রম শুরু করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব এবং ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সকল শহীদসহ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় আত্মোৎসর্গকারীদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশের সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মান্যবর প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন দূতাবাসের কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সরদার ইশতিয়াক আহমেদ এবং মোহাম্মদ মাশহুদুল কবির। এছাড়া ৭ই নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। দূতাবাসের দূতালয় প্রধান বারিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা পর্বে প্রধান বক্তা ছিলেন কাতারের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. হাসান মাহমুদ। তিনি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সিপাহি-জনতার ঐক্যের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। এ মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানে কাতারে বসবাসরত বাংলাদেশ কমিউনিটির বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, জুলাই যোদ্ধা জিহাদ নুর চৌধুরী, কাতার বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ আবু সাইদ, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক সাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক সালেহ আহমেদ খোকন এবং একেএম আমিনুল হকসহ অন্যান্য কমিউনিটি নেতারা দেশ গড়ায় প্রবাসীদের ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শাহজাহান সাজু, জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, শফিকুল ইসলাম, ইসমাইল মনসুর ও বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ হোসেন আহমেদ।
রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হযরত আলী খান সভাপতির বক্তব্যে বলেন, সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ চেতনাই জাতিকে তৎকালীন সংকট উত্তরণের পথ দেখিয়েছিল। তিনি সেই ঐক্যের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের অগ্রযাত্রায় অবদান রাখার জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে স্বাগতিক কাতারের আইন ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করতে তিনি অনুরোধ করেন। অনুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক পর্বে কবিতা আবৃত্তি ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করা হয় এবং অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার পরিবেশন করা হয়। সবশেষে আমন্ত্রিত অতিথিগণকে ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার-সহযোগে আপ্যায়ন করা হয়।

