মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনার পারদ ফের চড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী।
এর ফলে মাত্র একদিনের ব্যবধানে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি দুই ডলারেরও বেশি বেড়েছে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সময় বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিট পর্যন্ত তথ্যে দেখা যায়, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৩০ ডলার বা ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৬ দশমিক ৯২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই-এর দাম ২ দশমিক ১৫ ডলার বা ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়ে ৯০ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সময় বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৩০ ডলার বা ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৯২ ডলারে দাঁড়ায়।
এর আগে বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের এই দুই প্রধান মানদণ্ডের দাম প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছিল, যা গত ৩১ আগস্টের পর থেকে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছিল। তবে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট সমাধান না আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববাজারের সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে এই অনিশ্চয়তাই মূলত দরবৃদ্ধির পেছনে মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট কোনো সমাধান না আসায় বিনিয়োগকারীরা নতুন করে ঝুঁকি বিবেচনা করছেন। বিশেষ করে তেল পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
ইউবিএসের পণ্যবাজার বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভোর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি অমীমাংসিত রয়ে গেছে। সেই রেশ ধরেই জ্বালানি তেলের দামে এই পুনরুদ্ধার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। লিপো অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ডি লিপো জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজে ড্রোন ও মাইন ব্যবহারের মাধ্যমে হামলার খবর বাজারে ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা নিয়ে ইরানের অবস্থানের কোনো সুরাহা না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা কাটছে না।

