ইরানের জব্দ করা ৬০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পদ ছাড়ের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনার পথ খুঁজতে কাতারের মধ্যস্থতায় দোহায় তৃতীয় দিনের মতো পরোক্ষ আলোচনা চলছে। ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা উপসাগরীয় দেশগুলো সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই এই সমঝোতা সম্পন্ন হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় উপসাগরীয় দেশগুলোর কর্মকর্তারা ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির’ জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আগেও যেমন দেখিয়েছি, এবারও সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছি।’। ৪ দেশের শীর্ষ নেতাদের সাথে কথা বললেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী। সোমবার তাঁর তুর্কমেনিস্তান যাওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য এই মহান জাতি শত্রুদের যথেষ্ট সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনার কিছু অংশে অবৈধ বোমা হামলার মুখে পড়তে হয়েছে।’।
কাতারের রাজধানী দোহায় আয়োজিত এই আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহণ না করলেও ইরানের কূটনীতিকরা সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন সামরিক পথের পরিবর্তে কূটনীতিকে প্রাধান্য দেয়। ওয়াশিংটনের যুক্তিবোধের ওপর নির্ভর করে ইরান প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি উভয় পথেই প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনার পরিকল্পনা তেহরানের নেই।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ জানিয়েছেন, নতুন করে উত্তেজনা বাড়ানো ইরান বা তার প্রতিবেশী কোনো দেশের পক্ষেই শুভ নয়। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি প্রতিকূলে গেলে তার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছেন। ইরানের সঙ্গে প্রতিবেশী হিসেবে সুসম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে গারগাশ জানান, তারা দীর্ঘস্থায়ী কোনো সংকটে দেশটিকে জড়িয়ে পড়তে দেখতে চান না।
হরমুজ প্রণালির অদূরে শুক্রবার পাকিস্তানগামী কাতারের একটি এলএনজি জাহাজে অজ্ঞাতপরিচয় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত সত্ত্বেও মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া থামেনি। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে তেহরান জাহাজটিকে নিরাপদে চলাচলের ছাড়পত্র দিয়েছিল। কাতার এমন একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়। এ প্রক্রিয়ার সময়সীমা সাত দিন থেকে কমিয়ে দুই দিনে আনতে সম্মত হয়েছে ইরান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে, তবে এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবস্থা নেওয়া বাকি।
ইরান যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বললেও ট্রাম্প তেহরানকে খুব একটা নির্ভরযোগ্য মনে করছেন না।
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানের জন্য প্রস্তুত। ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি জানান, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছ থেকে আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে একটি চিঠি পেয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস দেখছেন, যদিও চিঠির জবাব এখনো দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যের ‘সুরে’ ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করেছেন বলেও জানান রেজায়ি।
আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি জানিয়েছেন, মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, সম্পদের ওপর বাধা অপসারণ এবং তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি ইরান। তবে ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসবে না তেহরান। তিনি বলেন, যেকোনো চাপের মুখেও পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা না করার সিদ্ধান্তে অটল ইরানি জনগণ।
ইরানি নিরাপত্তাপ্রধান রেজায়ি দাবি করেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন এক যুদ্ধের চাপে রয়েছেন যার প্রভাব ভিয়েতনাম যুদ্ধের চেয়েও ব্যাপক। তিনি জানান, ট্রাম্প বর্তমানে যেখানেই যান, তাকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর কারণ সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হয়। এই যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে সৃষ্ট চাপের মুখে সাধারণ পরিবারগুলোও নিস্তার পাচ্ছে না বলে দাবি করেন রেজায়ি। দ্য গার্ডিয়ানের কূটনৈতিক সম্পাদক প্যাট্রিক উইনটুরের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।

