সিলেট টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন বাংলাদেশি পেসার হাসান মাহমুদ। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে উইন্ডিজ ব্যাটারদের ওপর তাণ্ডব চালিয়ে তিনি তুলে নিয়েছেন পাঁচটি উইকেট। এই কৃতিত্বের মাধ্যমে টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতে পাঁচ উইকেট পাওয়ার মাইলফলক স্পর্শ করলেন এই পেসার। একই সঙ্গে ৩৮ টেস্টে চারবার পাঁচ উইকেট নেওয়া শাহাদাৎ হোসেনকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চবার ফাইফার পাওয়ার রেকর্ডটি এখন হাসানের দখলে। উইকেটকিপার হিসেবে তিনি বরাবরই দুর্দান্ত। বাংলাদেশের বলতে গেলে কোনো আশাই নেই। প্রথম আধঘণ্টায়ও বলতে গেলে ঘটেনি তেমন কিছুই।
ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা কঠিন থাকলেও নতুন বল হাতে নিয়ে চিত্রপট বদলে দেন হাসান। ইনিংসের এক পর্যায়ে ২১২ বল মোকাবেলা করা আমির জাঙ্গু হাসানের বলে বিভ্রান্ত হয়ে বল ছেড়ে দিলে তা সরাসরি স্টাম্পে আঘাত করে। পরের বলেই রোস্টন চেজকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন এই পেসার। জশুয়া বিশপের ক্ষেত্রে আম্পায়ারের আঙুল উঠলেও রিভিউয়ে তিনি বেঁচে যান, ফলে হ্যাটট্রিক থেকে বঞ্চিত হন হাসান। শেষ পর্যন্ত জাস্টিন গ্রিভসকে লিটন দাসের অবিশ্বাস্য এক স্টাম্পিংয়ে সাজঘরে ফিরিয়ে নিজের পঞ্চম উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। লাঞ্চের আগে হাসান মাহমুদের শেষ উইকেটের জন্য চাইলে কিছুটা কৃতিত্ব দাবি করতে পারেন লিটন দাস। তাঁর বলে যে ৫ ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন, তাদের দুজন বিভ্রান্ত হয়ে বল ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হন। জাঙ্গুকে দিয়েই সেটির শুরু— ২১২ বল খেলে ফেলা এই ব্যাটসম্যান হাসানের বল ছেড়ে দিয়ে কি না বোল্ড। আমির জাঙ্গু সেঞ্চুরি পেয়ে অপরাজিত, গ্রিভসও থিতু। কিন্তু নতুন বল পেয়েই পুরো গল্পটা বদলে দিলেন হাসান। আবুধাবিতে গত মাসেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন হাসান।
হাসানের বোলিং জাদুতে প্রতিপক্ষের পাঁচ ব্যাটারের দুজনই বল ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হয়েছেন, যা তাঁর নিখুঁত লাইন-লেন্থেরই পরিচয়। ১৯ টেস্টের ক্যারিয়ারে এটি তাঁর পঞ্চম ফাইফার। এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের বিপক্ষে চেন্নাইয়ে এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। এছাড়াও আগস্টে ডারউইন ও গত মাসে আবুধাবিতেও পাঁচ উইকেট শিকারের রেকর্ড আছে তাঁর। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে শুরু, ওই বছর সেপ্টেম্বরেই চেন্নাইতে ফাইফার পান ভারতের বিপক্ষে। ১৯ টেস্টের ক্যারিয়ারে এবার একটি প্রথমের দেখা অবশ্য পেয়েছেন হাসান।
ধীরস্থির রানআপ নিয়ে নিয়মিত একই জায়গায় বল ফেলার সামর্থ্য হাসানের বোলিংকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে, যা বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই ম্যাচে তাঁর এমন নিয়ন্ত্রিত ও ধারালো বোলিং দলের লড়াইয়ে ফেরার পথ প্রশস্ত করেছে। প্রথম দিন তাসকিনের দুই উইকেটের পর হাসানের এই দুর্দান্ত স্পেল সিলেট টেস্টে স্বাগতিকদের নতুন করে আশা জাগিয়েছে। এমন বোকা বানানোর ভাগ তো আর কাউকে দেওয়া যায় না।

