নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান দেখতে এসে হামলার শিকার হয়েছেন সাবেক এক শিক্ষার্থী। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তাঁকে মারধর করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। পরে তাঁকে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর নাম জয়নাল আবেদীন, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে পড়াশোনা করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী, শিক্ষার্থী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে অংশ নিতে জয়নাল ক্যাম্পাসে আসেন। তাঁকে দেখে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমি ও সুমন সরদারসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাম্পাসের কাঁঠালতলা এলাকা থেকে জয়নালকে আটকে পার্শ্ববর্তী পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুলের চত্বরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে মারধর করার পর শাঁখারীবাজার মোড়ে নিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এক ভিডিও চিত্রে ঘটনার সময় জয়নালকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলতে শোনা যায়, তাঁকে অন্যায়ভাবে ধরা হয়েছে। ছাত্রলীগের কোনো পদ বা কার্যক্রমে তাঁর যুক্ততা প্রমাণ হলে যেকোনো শাস্তি তিনি মেনে নেবেন বলেও জানান। তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমাকে অন্যায়ভাবে ধরছে। পরে তাকে নিয়ে পোগোজ স্কুলের গেট দিয়ে বের হয়ে আমরা শাঁখারীবাজার মোড়ে গিয়ে পুলিশকে দেখতে পাই। যদি ছাত্রলীগের পোস্টেড কোনো কিছুতে আমি থাকি, তবে আমার বিচার যা মন চায় করবে।’।

এ বিষয়ে ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ বলেন, কাঁঠালতলায় জয়নালকে দেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি কিছু স্বীকার করেননি। পরে তাঁকে শাঁখারীবাজার মোড়ে থাকা টহল পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন যাচাই করার অনুরোধ করা হয়। পাশাপাশি পোশাক শ্রমিকদের মিছিলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে তাঁর কোনো যোগসাজশ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। অন্য এক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান বানচালের অপতৎপরতা রোখতেই ছাত্রদল এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা জয়নালকে থানায় বুঝিয়ে দিয়েছেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায় হওয়ায় সেখানকার স্থানীয় থানার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে তাঁর কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, এর আগের দিন রোববারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল থেকে ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতাকে আটক করে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করেছিলেন ঢাবি ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।

শিরোনাম :