নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর ইরাননীতি নিয়ে দোলাচলে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। দীর্ঘদিনের শক্তিশালী ঘাঁটিগুলো হাতছাড়া হওয়ার পাশাপাশি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে দলটি। ডেমোক্রেটিক পার্টির এই বড় বিজয় দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নির্বাচনী এই বিপর্যয়ের পেছনে জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতিকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত, যা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পাশাপাশি দলটি এমন সব আসনেও হেরেছে, যেগুলো দীর্ঘদিন ধরে তাদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সরাসরি স্বীকার করেছেন যে, ‘যুদ্ধের কারণেই আমরা হেরেছি।’ ট্রাম্প নিজেও এই মন্তব্যকে অনেকাংশে সত্য বলে মেনে নিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্প কি এখন নতুন করে সামরিক অভিযানের দিকে ঝুঁকবেন, নাকি কৌশল বদলে সমঝোতার পথে হাঁটবেন?

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে।

নির্বাচনের পরপরই তিনি বড় কোনো যুদ্ধের আগ্রহ না দেখালেও, বৃহস্পতিবারের এক বক্তব্যে সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সব লক্ষ্য প্রায় অর্জিত হয়েছে এবং তিনি চান না ইরানের বাকি অংশ ধ্বংস হোক।

তবে পরিস্থিতির প্রয়োজনে তিনি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখছেন।

অন্যদিকে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে ভ্যান্স কিছুটা ভিন্ন অবস্থানে হাঁটছেন। তিনি মনে করেন, ভোটারদের আস্থা ফেরাতে হলে যুদ্ধ বন্ধ করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে ফেরা জরুরি। সেই সঙ্গে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ধরনেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

নির্বাচনের পর বর্তমানে ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন নেমে এসেছে ৩৮ শতাংশে। জানুয়ারি মাসে নতুন কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরুর আগেই ইরান প্রশ্নে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে ওয়াশিংটনকে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে চাপে রাখতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের কৌশল ট্রাম্প প্রশাসন আগেও কাজে লাগিয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এদিকে, ইরান প্রশ্নে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নীতি নিয়েও ওয়াশিংটনে অসন্তোষ বাড়ছে। জানা গেছে, ভ্যান্স ব্যক্তিগত আলোচনায় নেতানিয়াহুর ইরাননীতিকে প্রায় সব ক্ষেত্রেই ভুল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। জানুয়ারির শুরুতে নতুন কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরু হবে। এতে বোঝা যায়, ইরানকে সামরিক শক্তি দিয়ে দমনের যে কৌশল নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন করে আসছেন, তার কার্যকারিতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের মধ্যেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একই কারণে ইসরাইলের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপেও ওয়াশিংটন সমর্থন দেয়নি। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।

তেহরানের নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে এক নতুন আত্মবিশ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা বারবার সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সামরিক হামলা চালালে তারা পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, হামলার ক্ষেত্রে তারা ভৌগোলিক কোনো সীমাবদ্ধতা মানবে না এবং প্রয়োজন হলে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হবে। এমন পরিস্থিতিতে সীমিত পরিসরে হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশ কঠিন হতে পারে। তবে পরিস্থিতির কারণে হয়তো তাকে সে পথেই যেতে হতে পারে। তেহরান বারবার জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত বা দীর্ঘমেয়াদি—যেকোনো ধরনের সামরিক অভিযান চালালেই পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।

এই জটিল সময়ে কাতার, তুরস্ক, মিসর, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলো নতুন যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। তারা বুঝতে পারছে যে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরাইলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র কোনো দৃশ্যমান কৌশলগত সাফল্য পায়নি, বরং আলোচনার টেবিলে তাদের অবস্থান আরও দুর্বল হয়েছে।

বর্তমানে সমঝোতার জন্য ইরান সাত দফা দাবি উত্থাপন করেছে। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে সংঘাত বন্ধ করা, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ছাড় এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ। জুন মাসে ভেঙে যাওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারকের কাঠামোর ভিত্তিতেই ইরান এগোতে চায়। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রকে সাত দফা দাবি মেনে নিতে হবে এবং এরপর ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার নিজেদের হাতেই রাখতে চায় তেহরান। সব মিলিয়ে বর্তমানে যুদ্ধের চেয়ে সমঝোতার পাল্লাই ভারী বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে ট্রাম্প যদি রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা বোধ করেন, তবে শেষ মুহূর্তে তিনি কোন পথ বেছে নেবেন, তা অনিশ্চিত। ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে তিনি কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত, সেটিই এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। অর্থাৎ, নতুন করে সংঘাত এড়ানোর চেয়ে এখন সমঝোতায় পৌঁছানোই ইরানের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

শিরোনাম :
নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর ইরাননীতি নিয়ে দোলাচলে ট্রাম্প নিউগিনি প্রপার্টিজে ফের হামলা, উল্টো মালিকের বিরুদ্ধেই মামলা হরমুজ পারাপারে ইরানের নির্দেশনা মানতে হবে: রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি সরকারি বাসা থেকে ভাড়াটে সরাতে উচ্ছেদ অভিযানের প্রস্তুতি, বরাদ্দ বাতিলের হুঁশিয়ারি ইরানের অস্ত্র সরবরাহ রুখতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন টাস্কফোর্স আয়রন গেট ইসরায়েলের নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন গাদি আইজেনকোট ইসরাইলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন গাদি আইজেনকট: সামনে ৬ বড় বাধা ঢাবিতে কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারস কোর্সে ভর্তি, আবেদন ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত কুয়েতে শিক্ষার্থীদের কাছে ই-সিগারেট বিক্রি: ৫ বাংলাদেশী গ্রেপ্তার সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নস্যাৎ নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর ইরাননীতি নিয়ে দোলাচলে ট্রাম্প নিউগিনি প্রপার্টিজে ফের হামলা, উল্টো মালিকের বিরুদ্ধেই মামলা হরমুজ পারাপারে ইরানের নির্দেশনা মানতে হবে: রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি সরকারি বাসা থেকে ভাড়াটে সরাতে উচ্ছেদ অভিযানের প্রস্তুতি, বরাদ্দ বাতিলের হুঁশিয়ারি ইরানের অস্ত্র সরবরাহ রুখতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন টাস্কফোর্স আয়রন গেট ইসরায়েলের নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন গাদি আইজেনকোট ইসরাইলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন গাদি আইজেনকট: সামনে ৬ বড় বাধা ঢাবিতে কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারস কোর্সে ভর্তি, আবেদন ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত কুয়েতে শিক্ষার্থীদের কাছে ই-সিগারেট বিক্রি: ৫ বাংলাদেশী গ্রেপ্তার সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নস্যাৎ