৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে আবারও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকার বিভিন্ন কারখানা থেকে বের হয়ে শ্রমিকেরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে নেমে আসেন। পরে তাঁরা শিবু মার্কেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করলে উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রী ও চালকদের চরম ভোগান্ত পোহাতে হচ্ছে।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করা, পোশাক কারখানায় রেশনিং ব্যবস্থা চালু, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার দেওয়া, শ্রমিক আমজাদ হোসেন কামালসহ নিহতদের হত্যার বিচার এবং অহেতুক ছাঁটাই বন্ধ করে শ্রম আইনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জলকামান ও আর্মার্ড পারসোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি) নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান নিয়েছেন।
এ ঘটনায় শিল্প পুলিশ-৪-এর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন এবং তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। এর আগে মঙ্গলবার সকালে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি বিসিক শিল্পনগরী ও সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা কাজে যোগ দেওয়ায় উৎপাদন স্বাভাবিক ছিল। তবে বেলা সোয়া তিনটার দিকে ফতুল্লার কাঠেরপুল থেকে শ্রমিকেরা হঠাৎ করে রাস্তায় নেমে এলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাঁদেরকে বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এর আগে সোমবারও একই দাবি আদায়ে দুপুর থেকে প্রায় চার ঘণ্টা লিংক রোড অবরোধ রেখেছিলেন শ্রমিকেরা। সে সময় জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের ইতিবাচক আশ্বাসে বিকেল সোয়া চারটার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে জেলায় পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করেন জেলা প্রশাসক রায়হান কবির, যার মধ্যে দুই প্লাটুন টহলে এবং তিন প্লাটুন রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়। তবে ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই মঙ্গলবার বিকেলে ফের সড়কে নামেন শ্রমিকেরা। গতকাল শ্রমিকদের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছিল।

